Taro GP,বাংলাদেশের বাইক প্রেমীদের কাছে এখন খুবই পরিচিত একটি নাম।আকর্ষণীয় লুক,
রিজনেবল প্রাইসিং,চমতকার পারফর্মেন্স নিয়ে বেশ গোছানো একটি প্যাকেজ অফার করছে ট্যারো
জিপি।চলুন দেখে আসি কেমন ছিলো ট্যারো জিপির এই জার্নি,বাইকের জগতে।

Zhejiang chuangtai Motorcycle Company Ltd, যাকে আমরা TARO নামে
চিনি,প্রতিষ্ঠিত হয় ২০০১ সালে।এটি চায়নার Zhejiang প্রভিন্সে অবস্থিত।প্রাইভেট এই কোম্পানিটি
মূলত সকল বাইক-স্কুটার,আনুষাঙ্গিক পার্টস এবং অন্য স্বনামধন্য কোম্পানির সাথে যৌথভাবে বাইক
প্রডিউস করে থাকে।কোয়ালিটি মেইন্টেইন করে খুব দ্রুতই কোম্পানিটি ISO Certification লাভ
করে।ট্যারো আমেরিকার জিরো মোটরসাইকেলস,স্পেইনের GOES,চায়নার লিফানের সাথে কো-অপারেশন
এর মাধ্যমে বাইক প্রস্তুত করে যাচ্ছে।এছাড়াও আরো অনেক দেশে তারা বাইকের রিসার্চ এন্ড ডেভলপমেন্ট
এর কাজ করে যাচ্ছে।

TARO GP ONE,ট্যারোর প্রথম রেসিং মোটরবাইক,২০১৬ সালে যার মাধ্যমে ট্যারো চায়নার প্রতিযোগিতা
মূলক রেসিং মার্কেটে প্রবেশ করে।জিপি ওয়ান বাইকটির অরিজিন কিন্ত ইতালিতে।অনেকেই আছেন যারা ট্যারো
চায়না না ইতালির ব্র্যান্ড এই তর্কে হারিয়ে অনেক ভুল-ভাল বকে বসেন।ট্যারো মূলত চায়নার কোম্পানি,
এসেম্বলিং চায়নাতেই হয়,কিন্ত তারা বিশ্বের বিভিন্ন সুপরিচিত কোম্পানির সাথে কাজ করে যাচ্ছে,জিপি
ওয়ান তারই ফসল।জিপি ওয়ান এর জন্ম ইতালিতে,এর ডিজাইন,লুক এর মডেল সব ইতালিতে করা।জিপি ওয়ান
মূলত ৪০০ সিসির একটি মনস্টার,ট্যারো জিপি ওয়ান হলো ট্যারো-জিপি এর কোলাবরেশন এর ফল,৪০০
সিসির বাইকটিকে তারা ১৫০ সিসিতে রূপান্তর করেছেন।মজার ব্যাপার হলো ট্যারো জিপি ওয়ান এ ৪০০
সিসির বাইকের চ্যাসিস ই ব্যবহার করা হয়েছে,যার কারণে বাইকের ইঞ্জিন আর চ্যাসিস এর মাঝে কিছুটা গ্যাপ
রয়েছে,এর জন্য বাইকে ইঞ্জিন ওয়েল দিতে হলে আপনার একটি এক্সট্রা পাইপ লাগবে,কারণ ইঞ্জিন বডির বেশ ভিতরে।

ট্যারো জিপি ওয়ান ১৫৫ সিসির ৬ স্পিড এর একটি স্পোর্ট বাইক।এর পাওয়ার ১৬ বিএইচপি,১৪.৫ নিউটন-মিটার টর্ক আর ৮০০০ আরপিএম বিশিষ্ট।এর সবগুলো লাইট এলইডি,ইঞ্জিন লিকুইড কুল্ড,ফ্রন্টে রয়েছে টেলিস্কোপিক আর রিয়ারে মনোশক সাসপেনশন।এর ইঞ্জিনটি লিফান এর।এতে রয়েছে CBS(Combined Breaking System).

ট্যারো জিপি ওয়ান এর সাকসেস এর গত বছর বের হয় ট্যারো জিপি টু,যাকে জিপি ওয়ান এর ছোট ভাই বলা যেতে পারে।এর সাথে জিপি ওয়ান এর পার্থক্য ওজনে,জিপি টু ওজনে ১০ কেজি কম,১৪০ কেজি,ডাইমেনশনে জিপি টু কিছুটা ছোট এবং এর ফুয়েল ক্যাপাসিটি জিপি ওয়ান থেকে কম।

ট্রেডিশনাল কথা বার্তা ফেলে এবার আসি ইউজার এক্সপেরিয়েন্সে।উদাহরণ হিসেবে জিপি ওয়ান বাইকটিকে ধরা যাক।প্রথম কথায় বলতে হবে জিপি ওয়ান এর লুক সম্পর্কে।বাইকটি ভীষণ স্পোর্টি,প্রচন্ড মাস্কুলার,আর কালার ও অসাধারণ।বাইকটি দেখে মনে হয় না এর দাম তিন লক্ষ টাকা।ছবিতে হয়তো আপনি এর লুক তেমন বুঝবেন না,তাই সাজেশন থাকবে একে সামনা সামনি দেখে নেয়ার।এর অ্যারোডাইনামিক এডভান্সড ডিজাইন আর সিটিং পজিশন এর কথা না বললেই নয়।অনেকের ই সিটিং পজিশন নিয়ে কমপ্লেইন থাকে স্পোর্টস বাইকের,কিন্ত জিপিতে আপনি এই সমস্যায়  পরবেন না।আপনাকে বাইকটি চালাতে হালকা লিন হতে হবে,কিন্তু এতে সেরকম কোনো ব্যাক বা রিস্ট পেইন আপনি অনুভব  করবেন না।থ্রি পার্ট হ্যান্ডেল বার আপনাকে বাইকটি নিয়ন্ত্রণে আরো সাহায্য করবে।নিয়ন্ত্রণ এর কথা বলতে গেলে আসি ব্রেকিং সিস্টেমে।বাইকের টুইন ডিস্ক ব্রেক আর কম্বাইন ডিস্ক ব্রেক এক কথায় অসাধারণ।বাইকটি চালালে আপনি প্রতি মুহূর্তে এর ব্রেকিং কতটা স্মুথ সেইটা অনুভব করতে পারবেন।ভাঙা চোরা রাস্তায় বাইকটি কন্ট্রোলে তেমন সমস্যা হয় না,শুধু বাইকটি একটু বাল্কি,এই যা।
৪০০ সিসির বাইকের চ্যাসিস এটি,বাল্কি তো হবেই।কর্নারিং করতে পারবেন খুব আরামসে,থ্যাংকস টু ইটস ডিজাইন এন্ড ব্রেকিং।
বাইকের মাইলেজ ও আপনাকে হতাশ করবে না,মোটামুটি ৩৫-৪০ কিমি মাইলেজ পেয়ে যাবেন হাইওয়েতে যা আরোবাড়বে।

 

বাইকের সমস্যা বলতে যা আছে তা হলো পার্টস এভেইলেবিলিটি।অনেকের ই ধারণা এর পার্টস একদম ই পাওয়া যায় না আর গেলেও  দাম কয়েকগুণ পড়বে।কিন্ত ট্যারো বাংলা অফিশিয়ালি এর পার্টস নিয়ে আসছে প্রতিনিয়ত,এবং দাম যথাপোযক্ত দাম এবং সার্ভিস প্রদান করছে,যা ট্যারো জিপি বাইক নিয়ে প্রধান সমস্যা অনেকটাই দূর করেছে এবং ভবিষ্যতে আরো দূর করবে।ট্যারো তাদের বাইক সার্ভিস সেন্টার প্রসারের কাজ খুব প্রশংসার সাথেই করে যাচ্ছে।
অনেকেই চায়না বাইক বলে ট্যারোকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে থাকেন।ট্যারো জিপি ওয়ান বাইকের অরিজিন ইতালিতে,অন্য অনেক কিছুর মতোই এর প্রোডাকশন আর অ্যাসেম্বলি চায়নাতে।গেলো বাইক শোতে ট্যারো ভূয়সী প্রশংসা কামিয়েছে,যার ফলাফল দেখা যাচ্ছে এই বাইকের বিক্রির পরিমাণ এর উপর।সচেতন বাইক প্রেমীরা ট্যারোকে সাদরে গ্রহণ করছেন।ট্যারোর মতো কোম্পানিগুলো বাংলাদেশের বাইক মার্কেটকে
আরো প্রতিযোগিতামূলক করে তুলছে,যা আমাদের মতো সাধারণ ভোক্তাদের জন্য একটি সুসংবাদ।এরকম চলতে থাকলে স্বনামধন্য বাইক কোম্পানির  স্পোর্টস বাইক গুলোও হয়তো একদিন হাতের নাগালে চলে আসবে সাধারণ ভোক্তাদের।